সহজ বিয়ে, বরকতময় সংসার: দ্বীনদার জীবনসঙ্গী খোঁজার কথা
জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে দ্বীন আর চরিত্রকে কেন আগে রাখবেন, সম্মতি কেন জরুরি, আর বিয়েকে কীভাবে সহজ রাখবেন।
বিয়ে শুধু দুজন মানুষের একসাথে থাকা নয়, এটা একটা ইবাদত আর সারা জীবনের দায়িত্ব। তাই জীবনসঙ্গী খোঁজার সময় কোন বিষয়গুলোকে আগে রাখবেন, সেটা আগেই ঠিক করে নেওয়া ভালো।
দ্বীন আর চরিত্র আগে
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, সাধারণত মানুষ চারটি কারণে বিয়ে করে — সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য আর দ্বীন; তোমরা দ্বীনদারকে বেছে নাও। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
এর মানে এই নয় যে অন্য বিষয়গুলো একেবারে গুরুত্বহীন। পছন্দ হওয়া, পরিবারের মিল, সামর্থ্য — এগুলোও দেখা দরকার। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ওজন দিতে হবে মানুষটার দ্বীন আর আখলাকে (চরিত্রে)। কারণ চেহারা আর সম্পদ বদলায়, কিন্তু ভালো চরিত্র সংসারকে সারা জীবন শান্তিতে রাখে।
দ্বীনদারি কীভাবে বুঝবেন
শুধু পোশাক বা কথা দেখে নয়। খোঁজ নিন:
- নামাজ নিয়মিত পড়েন কি না।
- বাবা-মা আর পরিবারের সাথে আচরণ কেমন।
- কথা দিয়ে কথা রাখেন কি না, লেনদেনে সৎ কি না।
- রাগের সময় আচরণ কেমন থাকে।
- আশেপাশের মানুষ তাঁর সম্পর্কে কী বলে।
সম্মতি ছাড়া বিয়ে নয়
ইসলামে ছেলে-মেয়ে দুজনের সম্মতি বিয়ের জরুরি শর্ত। মেয়ের মতামত জিজ্ঞেস না করে, বা তাঁর অনিচ্ছায় বিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। অভিভাবকের দায়িত্ব ভালো প্রস্তাব খুঁজে আনা আর পরামর্শ দেওয়া — জোর করা নয়।
ShadiMaker-এ অভিভাবক প্রোফাইল চালালেও, যাঁর বিয়ে তাঁর সম্মতি নিয়েই প্রোফাইল খুলতে হয়।
বিয়েকে সহজ রাখুন
হাদিসে এসেছে, সবচেয়ে বরকতময় বিয়ে সেটি যেটিতে খরচ ও কষ্ট সবচেয়ে কম। (মুসনাদে আহমদ)
আমাদের সমাজে বিয়ে দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে — বড় অনুষ্ঠান, অনেক আয়োজন, লোক দেখানো খরচ, আর যৌতুকের মতো অন্যায় দাবি। এর ফলে অনেক ছেলে-মেয়ের বিয়ে দেরিতে হয়, অনেক পরিবার ঋণে ডুবে যায়। সহজ বিয়ের জন্য:
- সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট আয়োজন করুন।
- দেনমোহর ঠিক করুন যা সত্যিই দেওয়া যায়, আর তা আদায় করুন।
- যৌতুক বা কোনো রকম দাবি থেকে দূরে থাকুন।
- অপ্রয়োজনীয় রীতি আর অপচয় বাদ দিন।
পর্দা আর আদব রেখে কথা
বিয়ের আগে কথা বলার সময় শালীনতা বজায় রাখুন। প্রয়োজনীয় বিষয়ে কথা বলুন, অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলুন। অভিভাবককে আলাপে যুক্ত রাখুন। ShadiMaker-এ আপনি চাইলে ছবি শুধু তাঁদের দেখাতে পারেন যাঁদের আগ্রহ আপনি গ্রহণ করেছেন।
ইস্তিখারা আর পরামর্শ
বড় সিদ্ধান্তের আগে ইস্তিখারার নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চান, আর পরিবারের অভিজ্ঞ মানুষদের সাথে পরামর্শ করুন। খোঁজখবর নেওয়া, পরামর্শ করা আর দোয়া করা — এই তিনটি একসাথে চললে সিদ্ধান্ত নিয়ে মনে শান্তি থাকে।
শেষ কথা
নিখুঁত মানুষ কেউ নন — আপনিও না, যাঁকে খুঁজছেন তিনিও না। দ্বীন আর ভালো চরিত্রের একজন মানুষ পেলে ছোটখাটো অমিল নিয়ে বেশি ভাববেন না। আল্লাহ যেন সবাইকে উত্তম জীবনসঙ্গী মিলিয়ে দেন।