বিয়ের আগে যে ১২টি প্রশ্ন নিয়ে খোলামেলা কথা বলা দরকার
কোথায় থাকবেন, চাকরি চলবে কি না, সন্তান কবে — বিয়ের পরে যেসব নিয়ে ঝামেলা হয়, সেগুলো আগেই আলাপ করে নিন।
বিয়ের পরে যত ঝগড়া-অশান্তি হয়, তার বড় অংশই আসে এমন বিষয় থেকে যেগুলো নিয়ে আগে কেউ কথা বলেনি। দুজনেই ধরে নিয়েছিলেন "এটা তো স্বাভাবিক।" কিন্তু দুই পরিবারের "স্বাভাবিক" আলাদা হতে পারে। তাই বিয়ে ঠিক হওয়ার আগেই কয়েকটি বিষয়ে খোলামেলা আলাপ করে নিন।
এই প্রশ্নগুলো জেরা করার জন্য নয়। একে অপরকে বোঝার জন্য। নরম সুরে, ধীরে ধীরে, কয়েকবারের কথায় আলাপ করুন।
থাকা ও পরিবার
১. বিয়ের পর কোথায় থাকবেন?
যৌথ পরিবারে, নাকি আলাদা বাসায়? কোন শহরে? এখন যৌথ পরিবারে থাকলেও ভবিষ্যতে আলাদা হওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না?
২. দুই পরিবারের সাথে সম্পর্ক কেমন হবে?
বাবা-মায়ের দেখাশোনা কে কীভাবে করবেন? মেয়ের বাবার বাড়িতে কত ঘন ঘন যাওয়া হবে? ঈদ বা ছুটিতে কোন বাড়িতে?
৩. পরিবারে সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়?
বড় সিদ্ধান্তে কে কে মত দেন? স্বামী-স্ত্রী নিজেরা কতটা ঠিক করবেন?
পড়াশোনা ও কাজ
৪. বিয়ের পর পড়াশোনা বা চাকরি চলবে কি না?
মেয়েটি পড়াশোনা শেষ করতে চাইলে বা চাকরি করতে চাইলে পরিবার কি রাজি? এই প্রশ্ন বিয়ের পর সবচেয়ে বেশি ঝামেলা তৈরি করে, তাই আগেই পরিষ্কার করে নিন।
৫. চাকরির জন্য অন্য শহরে বা বিদেশে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে?
বদলির চাকরি হলে বা বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে, অন্যজন সাথে যাবেন কি না?
টাকা-পয়সা
৬. সংসারের খরচ কীভাবে চলবে?
আয় কত, কোথায় কোথায় দায়িত্ব আছে (যেমন বাবা-মা বা ভাই-বোনের খরচ), কোনো ঋণ আছে কি না — এসব লুকিয়ে রাখা ঠিক নয়।
৭. সঞ্চয় আর খরচ নিয়ে অভ্যাস কেমন?
একজন খুব হিসাব করে চলেন, আরেকজন খরচ করতে ভালোবাসেন — এমন হলে আগে থেকেই বোঝাপড়া দরকার।
৮. দেনমোহর ও বিয়ের খরচ কেমন হবে?
দেনমোহর কত হবে, অনুষ্ঠান কত বড় হবে, খরচ কে কতটুকু দেবেন — এসব নিয়ে দুই পরিবারের স্পষ্ট আলাপ জরুরি। (এ নিয়ে আলাদা লেখা আছে।)
জীবনযাপন ও বিশ্বাস
৯. ধর্ম পালন কেমন?
নামাজ-রোজা, পর্দা, হালাল-হারাম নিয়ে দুজনের ভাবনা কেমন? একজন খুব মেনে চলেন, আরেকজন একেবারেই না — এমন হলে পরে কষ্ট হতে পারে।
১০. সন্তান নিয়ে পরিকল্পনা কী?
কবে সন্তান নিতে চান? কতজন? সন্তানকে কীভাবে মানুষ করতে চান?
১১. স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু জানানোর আছে?
কোনো বড় অসুখ বা নিয়মিত চিকিৎসা চলছে কি না, সেটা বিয়ের আগে জানানো সততার পরিচয়। চাইলে দুজনে মিলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (যেমন রক্তের গ্রুপ, থ্যালাসেমিয়া বাহক কি না) করিয়ে নিতে পারেন।
১২. রাগ বা মনোমালিন্য হলে কী করেন?
চুপ হয়ে যান, নাকি কথা বলে মিটিয়ে নেন? ঝগড়া হলে পরিবারকে জড়ান কি না? এই প্রশ্নের উত্তর মানুষটাকে অনেকখানি চিনিয়ে দেয়।
কীভাবে জিজ্ঞেস করবেন
- একবারে সব প্রশ্ন নয়। কয়েকবারের আলাপে ধীরে ধীরে।
- নিজের উত্তরও আগে দিন। "আমি চাই বিয়ের পরেও চাকরি করতে, আপনার পরিবার কীভাবে দেখে?"
- উত্তর পছন্দ না হলেও রাগ করবেন না। সব বিষয়ে মিল হবে না, কোথায় ছাড় দেওয়া যায় সেটা ভাবুন।
- জরুরি বিষয়গুলোতে দুই পরিবারের অভিভাবকদেরও যুক্ত করুন।
এখন একটু অস্বস্তি লাগলেও, এই আলাপগুলো আপনাদের ভবিষ্যতের অনেক অশান্তি থেকে বাঁচাবে।